আজ ঐতিহাসিক ২৩ জুন । পলাশী দিবস
|| খান ইসমাইল ||
১৭৫৭ সালের এই দিনে ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে ষড়যন্ত্রমূলক যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায়। সিরাজ তখন বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাব। মুর্শিদাবাদ সুবে বাংলার রাজধানী। বাস্তবে পলাশীর যুদ্ধে নবাব হারেননি, হেরেছে বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্রের কাছে বাংলার স্বাধীনতা।
এই হার জিতের নাটকীয়তায় বাংলার স্বাধীনতা উপনিবেশবাদী ইংরেজদের হাতে চলে যায়। এর জের ধরেই একে একে ভারতের দেশীয় রাজ্যগুলোর দখলি স্বত্বও চলে যায় সেই ব্রিটিশ বেনিয়াদের হাতে। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন কার্যকর ছিল। পলাশী ট্র্যাজেডির পর নামে মাত্র মীর জাফর আলী খানকে সিংহাসনে বসানো হলেও সুবে বাংলা পরিচালিত হচ্ছিল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্লাইভের মর্জি মতো। মীরজাফরের পরিণতিও ভালো হয়নি। বিশ্বাসঘাতকতার পরও ইংরেজ বেনিয়াদের পক্ষ থেকে কোনো পুরস্কার তার ভাগ্যে মেলেনি। তিরস্কার আর লাঞ্ছনাই জুটেছে তার কপালে। এখন ‘মীরজাফর’ বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশব্দ।
এর ক’দিন পর মীরকাশিম বাংলার নবাব হয়ে বুঝতে পারেন, নবাবী আর তাদের হাতে নেই। সন্ধি আর চুক্তির বেড়াজালে এবং স্বার্থের বোঝাপড়ায় সুবে বাংলার স্বাধীনতাসূর্য অস্তমিত প্রায়। মীরকাশিম তখন তার শ্বশুর বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর ও অপরাপর রাজন্যের সব ষড়যন্ত্র টের পেয়ে যান। তত দিনে হিন্দু জমিদার ও রাজন্যবর্গের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ইংরেজ বণিকদের মানদণ্ড রাজদণ্ডের পর্যায় পৌঁছে গেছে। বাধ্য হয়ে মীরকাশিম সশস্ত্রশক্তি দিয়ে স্বাধীনতা রক্ষার শেষ চেষ্টা চালান। দুর্ভাগ্য, ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে মীরকাশিম পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হন।
ভাগ্যবিড়ম্বিত মীরকাশিমের শেষ পরিণতি সম্পর্কে ইতিহাস নীরব। তবে ‘স্বাধীনতার অস্তমিত সূর্যে’র খ্যাতি তার বিলম্বিত বোধোদয়ের পুরস্কার হিসেবে ইতিহাস তাকে সম্মানের আসনে বসিয়েছে। বাংলার মানুষের কাছে পলাশী ট্র্যাজেডি অসহনীয় এক ব্যথাতুর স্মৃতি। বিশেষত মুসলমানদের কাছে স্বাধীনতা হারানো ও অস্তিত্ববিনাশী হিসেবে দেখা দেয়। হিন্দুরা মুসলিম শাসকের বদলে ইংরেজ শাসক আগমনের বিষয়টি সমর্থন ও সহযোগিতা করে। অবশ্য বিলম্বে তাদেরও কিছুটা বোধোদয় ঘটেছিল।
তাতে কি ? যা হবার তা তো হয়েই গিয়েছিল । বাংলার আকাশ থেকে চিরতরে স্বাধীনতার সুর্য্য অস্তমিত হয়েগিয়েছিল সেদিন । আজো স্বাধীনতার নতুন সুর্য্য উদিত হয়নি ।

0 facebook-blogger-disqus:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন