মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় শ্রীনগরে ইউপি চেয়ারম্যান মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার

মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় শ্রীনগরে  ইউপি চেয়ারম্যান মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছেন।

জাহাঙ্গীর আলম, (নিজস্ব প্রতিবেদক) :  শ্রীনগরে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করে উল্টো মামলার আসামী হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তন্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। মাদক মামলার প্রতিবাদ করায় উপজেলার চিহ্নিত ইয়াবার ডিলার ও ৮ টি মাদক মামলার আসামী আলী হোসেনের পরিবার ইউপি চেয়ারম্যান সহ এলাকার ৩০ জন গন্যমন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করায় ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করেছ। শ্রীনগর থানা পুলিশ ইতিমধ্যে ওই এলাকায় ওপেন হাউস ডের আয়োজন করে মাদক ব্যবসায়ী আলী হোসেন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষনা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, ওই ইউনিয়নের পানিয়া গ্রামের আলী হোসেন, তার স্ত্রী ফুলমালা ও মেয়ে মিতু আক্তার কমলা অনেক দিন ধরে ইয়াবার পাইকারী ব্যবসা করে আসছে। তারা সবাই একাধিকবার পুলিশ ও র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছে। আলী হোসেন ৫ হাজার ৪শ, তার মেয়ে কমলা ১ হাজার ও স্ত্রী ফুলমালা ৫শ পিস ইয়াবা নিয়ে র‌্যাবরে হাতে আটক হয়েছিল। এছাড়াও পুলিশ তাদেরকে মাদক সহ একাধিকবার আটক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে শ্রীনগর, সিরাজদিখান ও লৌহজং থানায় মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রতিবারই তারা জামিনে ছাড়া পেয়ে পুনরায় মদক ব্যবসায় জড়িয়ে পরে। স¤প্রতি আলী হোসেনের বাড়ীতে প্রকাশ্যে ইয়াবার আসর ও অনৈতিক কার্যকলাপের কারনে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়। স্থানীয়রা বিষয়টি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেনকে অবহিত করেন। তিনি আলী হোসেনকে মাদক ব্যবসা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। চেয়ারম্যানের কথায় আলী হোসেন কোন কর্ণপাত না করায় তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান। কিন্তু পুলিশ উদ্যোগ নেওয়ার আগেই স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে আলী হোসেনের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ইয়াবার আসর গুড়িয়ে দেয়। এঘটনায় আলী হোসেনের স্ত্রী ফুলমালা তার অষ্টম শ্রেণীতে পড়–য়া মেয়েকে চেয়ারম্যান কুপ্রস্তুাব দিয়েছে উল্লেখ করে শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু থানা পুলিশ প্রকৃত বিষয়টি জানার কারনে মামলা নেওয়া থেকে বিরত থাকে। পরে যৌন হয়রানী ও ভাংচুরের অভিযোগ এনে ফুলমালা মুন্সীগঞ্জ আদালতে দুটি মামলা দায়ের করে। মামলায় চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, ইউপি সদস্য আঃ আলিম সহ ৩০ জনকে আসামী করা হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, পরিস্থিতি এমন হলে আর কেউ মাদক ব্যবসার বিরোধীতা করবেনা। বাড়ি ঘর ভাংচুরের পরদিনই আলী হোসেনকে ঢাকা-মাওয়া সড়কের নিমতলা থেকে ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। আলী হোসেনের পরিবারের কারনে ওই গ্রামের লোকজন এলাকায় পরিচয় দিতে লজ্জা বোধ করে। এখনো আলী হোসেন তার ভাই মোকসেদ আলীকে দিয়ে দেদারছে ইয়াবার ব্যবসা করাচ্ছে।

শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম আলমগীর হোসেন জানান, আলী হোসেনের পরিবার এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। আলী হোসেনের বিরুদ্ধে শ্রীনগর সহ বিভিন্ন থানায় মাদক আইনে ৮টি মামলা রয়েছে। আদালতের দায়ের কৃত মামলাটি পুলিশ তদন্ত করছে। শ্লীলতাহানির বিষয়টি সঠিক নয়।


Share on Google Plus

About SunLive tv

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 facebook-blogger-disqus:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন