সুমন হোসেন শাওন (মুন্সীগঞ্জ থেকে) : মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগরে উধাও হয়ে গেলো সিংপাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড, পাওনাদাররা টাকা ফেরত না পাওয়া ফুঁসে উঠেছে। টাকার দাবিতে রবিবার তারা সিংপাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে। উপজেলার তন্তর ইউনিয়নের সিংপাড়া বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির পরিচালক মোঃ তুহিন সমিতির ব্যনার ব্যবহার করে বাজারে অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সমিতির সদস্যরা জানান, সিংপাড়া এলাকার সায়েদ কাজীর ধর্ম পুত্র মোঃ তুহিন প্রায় ১০/১২ বছর পূর্বে সিংপাড়া বাজেরে সায়েদ কাজীর সহযোগিতায় একটি বহুমুখী সমবায় সমিতি গড়ে তোলে। অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি হাজারো সদস্যে কাছ থেকে প্রায় ২কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। ঈদের কয়েক দিন আগে সমিতির মূল ভাগিদার সায়েদ কাজীর গোপন সহযোগিতায় মোঃ তুহিন ও তার পরিবার উধাও হয়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি সমিতির সদস্যরা জানতে পেরে সায়েদ কাজীকে টাকার জন্য চাপ দেয়। এতে তারা টাকা ফেরত পাওয়ার প্রতিশ্রুতি না পেয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে।
এনিয়ে সিংপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা টাকা ফেরৎ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সমিতির একাধিক সদস্য অভিযোগ করে বলেন, সায়েদ কাজী আমাদের ভরসা দেওয়ায় আমরা সমিতিতে টাকা রেখেছি এখন বলেন উনি কিছু জানেন না। সায়েদ কাজী এলাকার স্থানীয় কাজী একই সাথে বেলতলী হাই স্কুলের শিক্ষক তাই তিনি আমাদের বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি। তার কথায় আমরা এখানে টাকা জমিয়েছি। এছাড়া সায়েদ কাজীর ছেলে মুন কাজী নিজে দোকানে দোকানে ঘুরে সমিতির পাশ বহি দ্বারা টাকা উত্তোলন করত।
সমিতির একাধিক মহিলা সদস্য কান্নারত কন্ঠে এ প্রতিবেদককে জানান, আমাদের অনেক বুঝিয়ে এখানে টাকা রাখার জন্য উদ্ধুদ্ধ করেছে সায়েদ কাজী। তিনি বলেন আমি এই প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত আছি, তোমরা টাকা রাখ কোন সমস্য নেই, কিছু হলে আমি দেখব। এ ব্যপারে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তুহিন ও সায়েদ কাজী প্রায় বার বছর ধরে এই বাজারে এ সমিতির মাধ্যমে টাকা পয়সা লেন-দেন করে আসছেন । হঠাৎ কি কারনে তুহিন উধাও হয়ে গেলো তা আমার বোধগম্য নয়।
এ বিষয় উপজেলা সমবায় অফিসারের কাছে জানতে চেয়ে মুঠো ফোনে কল করলে তিনি ফোনটি তুলেনি। এব্যপারে সমিতির একাধিক সদস্যের গন-স¦াক্ষরসহ সদস্যদের পক্ষে বুলু বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। থানার অফিসার ইনর্চাজ এস এম আলমগীর হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিব।

0 facebook-blogger-disqus:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন