ইমা-মত - ড. মাওলানা আবুল কালাম আযাদ বাশার এর চেয়ার দখল ও কিছু কথা -মোহাম্মদ ইসমাইল হোসাইন

ইমা-মত

ড. মাওলানা আবুল কালাম আযাদ বাশার এর চেয়ার দখল ও কিছু কথা

-মোহাম্মদ ইসমাইল হোসাইন

দেশের ইমাম-খতিবদের চাকুরী সবসময় বালিশের তলায় থাকে ! লজ্জাস্কর ব্যপার হচ্ছে- একজন ইমামের সাথে মসজিদ কমিটির সামান্য কোন দুরত্ব তৈরী হলেই ৩০-৪০ জন লাইন লাগায় কেউ সভাপতি-সেক্রেটারীর সাথে তৈল মর্ধণে, দেন দরবার করে অথবা কম বেতন দিলেও চলবে মর্মে অঙ্গীকার দিয়ে আবার কেউ কমিটিতে গ্রুপিং লাগিয়ে ! বলাই বাহুল্য অবস্থার প্রেক্ষিতে মনে হয় এসব কাজগুলো করে থাকেন কওমী অঙ্গনের কিছু, মোটামুটি হিফ্জ ফারেগ বা আধা অথবা বেশিরভাগ চরমোনাই পন্থীরা !

        মার এ লেখাটি হয়ত অনেকের কোমল স্থানে চাপেটাঘাতও করতে পারে, হয়ত এ কারণে অনেকে নোংরা ভাষায় গলি দিবেন ! তাই দয়াকরে পুরো লিখাটি পড়ে তারপর কমেন্ট করবেন।

        একথা প্রনিধানযোগ্য যে, আমার পিতা মরহুম মাওলানা এনায়েত উল্যাহ সাহেব বরাবরের মতো ছারছিনার ছাত্র-চরমোনাই ভক্ত-তাবলীগী নেছাব পূর্ণ করার সাথে সাথে হক্ব আকিদা হতে একটুও বিচ্যুত হননি। তাঁর পুরো জিন্দেগী দ্বিনী আন্দোলনের জন্য নিবেদিত ছিল। তথাপি তিনি আমাকে সহ আমার সব সহোদরদের আলীয়া নেছাব, কওমী, হিফ্জ মাদরাসা, কলেজ-ভর্সিটি-কম্পিউটার সাইন্স, আইন শাস্র সহ সব অঙ্গনে একটু আধটু শিক্ষাদান করাতে দ্বিধা করেননি। যার প্রভাবে আমার দুই সহোদর যথাক্রমে হাফেজ মাওলানা আবদুল হক ও শহীদ হাফেজ এনামুল হক (যিনি মাত্র ৮ বছর বয়সে হিফয ফারেগ) মাওলানা একরামুল হক এবং সর্বজেষ্ঠ্য আমি আল্লাহর গোলামকে তো অনেকেই জানেন আমি আলীয়া নেছাবের পাশাপাশি কাওমীর ছাত্র সহ কম্পিউটার সাইন্স, মিডিয়া কর্মী সহ বাকীগুলো নাই বললাম । আমার দু-বোনও আলীয়া নেছাবে উচ্চ শিক্ষিত আলহামদুলিল্লাহ। আমার নানা মরহুম মাওলানা আব্দুল গফুর কাওমী নেছাব থেকে পাশ করা লোক দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন সেই সাথে আমার ৫ (পাঁচ) মামাও কাওমী-আলীয়ায় শিক্ষা অর্জন করে দেশের ৫টি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ছিলেন।

        ১৯৯৯ খ্রিঃ শেষের দিকে আব্বা মরহুম আমার কনিষ্ঠ দুই হাফেজ সহোদরদের একজন মরহুম হাফেজ এনামুল হক এর শাহাদাতের পর কোন এক কারণে আমাকে সম্ভবতঃ মাদরাসার দায়িত্ব অর্পণ করার সময় নসীহা করে ছিলেন যে- আমার প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষার্থী যেন “একপেশে” শিক্ষা না পায়, একরোখা যেন না হয় যেন “ভোঁজ হাফেজ” না হয় ! যেন তারা পৃথিবীর যে কোন হালাল রুজি করে চলার মতো পথের সন্ধান পায়। কথাগুলো তখন অতটা বুঝিনি! বুঝার বয়সও হয়নি! আজ হাতে হাঁড়ে টের পাচ্ছি !

        পারিবারিক শিক্ষা থেকে আমরা সহোদররা কখনো কোন কারোই অহেতুক বিরোধীতা করতে শিখিনি। আমরা পারতপক্ষে তা করিওনা। আমার ব্লাড কানেকটেড আত্নীয়দের মধ্যে চরমোনাই পীর সাহেবের দলের সংসদ সদস্য প্রার্থী, ছাত্র আন্দোলনের জেলা সভাপতি সহ কেন্দ্রীয় নেতা পর্যায়ে এবং অন্যান্য ইসলামী দলের অনেকেই রয়েছেন। তারাও আমাদেরকে বেশ জানেন।

 

      মূল কথায় আসি-

        বিগত  ক‘দিন থেকে সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম ড. আবুল কালাম আযাদ বাশার হাফিজাহুল্লাহ কে সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযোক্তিকভাবে খতিবী দায়িত্ব থেকে দুরে রাখার বিষয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় নানা রকম আর্টিকেল-সাধারণ পোস্ট ও নিউজ গুলো বেশ সরগরম করে তুলছে পক্ষে বিপক্ষে। আমার খুব কাছের প্রিয়জন অনেকে এ নিয়ে অনেক লেখালেখি করেছেন। আমিও সাধ্যমতো মনোনিবেশ করে পড়ার ও অনুধাবন করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এ নিয়ে এক কলমও লিখিনি। পরিচিত সংবাদ সংস্থা, সম্পাদক সহ অনেকে এ নিয়ে লিখতে বললেও লিখায় কলম ধরতে সাহস পাইনি! বরাবরের মতো “ইছামতি” “জাগ্রত জনতা” “বিডি জাতীয় নিউজ” সহ অনেক মিডিয়ার বসেরা বিশেষ করে আমার লেখালেখির গুরু সাইফুল্লাহ সুমন ভাই, ইছমাত জেরিন আপনা সহ অনেকে লিখতে বলার পরও লিখিনি! তিক্ত বিষয়াদি নিয়ে লিখতে আমার একদম ভালো লাগেনা। তছাড়া সময়ও পাইনা। কিভাবে পাবো ? মাদরাসার ক্লাশ, দোকানদারী, কম্পিউটার ট্রেইনিং, সংসার, টিউশনি, আউটসোর্সিং, সামাজিক কাজ সহ প্রতিদিন সময় আরো শর্ট হয়ে যায় মনে হয় ২৪ ঘন্টার স্থলে ৩০-৩২ ঘন্টা হলে ভালো হতো !

ড. মাওলানা আবুল কালাম আযাদ বাশার এর চেয়ার দখল

        একান্ত বাধ্য হয়ে আলোচিত ঘটনা নিয়ে দুকলম না লিখে পারলাম না। আমার মতে আজাদী সাহেবের কি উচিত হয়েছে একজন বিদ্যমান দেশের প্রথিতযশা আলেমের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার আগে কোন কিছু না জানিয়ে মিমাংশা না করে চর দখলের মত মিম্বার দখল করা ! তবে কি এভাবেই আপনার বিচার ফায়সালা করেন ? আপনার জ্ঞান কি বলে ? এটা কি শরীয়ত সম্মত ?

আসলে এটা একজন আজাদী নয় বরং সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এমতের বেশিরভাগ লোকেরাই এমন করে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থানের অনেক ঘটনার আমি স্বাক্ষী। সে সব বাদ দিয়ে আমি আমার এলাকার কয়েকটি উদারহরণ দিচ্ছি

ঘটনা-১

আমাদের নিজ মসজিদে বহু বছর পর চরমোনাই পীর সাহেবের জনৈক মুরিদকে (যিনি আবার আমাদের দুরসম্পর্কের আত্নীয় বটে) ইমাম হিসেবে এলাকার প্রচলিতদের চেয়ে সর্বোচ্ছ সম্মানী দিয়ে রাখা হয়। দুর্ভাগ্য বশতঃ তিনি কয়দিন পরই হক্ব পন্থীদের বিরুদ্ধে বিষেদাগার আরম্ভ করেন। এলাকার সম্মানীত আলেমদের অপমান ও গীবত চর্চা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি সমাজে বিভক্তির দেয়ালও বানিয়ে দেন। সঙ্গত কারণে ইমামতি হারাতে হলো।

ঘটনা-২

আমাদের বাড়ী থেকে ১ কিলোঃ দক্ষিন পশ্চিমে এক মাসজিদে চরমোনাই পীর সাহেবের জনৈক মুরিদকে পান্জেগানা ইমাম হিসেবে  নিয়োগ দেয়া হয়। দুর্ভাগ্য বশতঃ তিনি কয়দিন পরই হক্ব পন্থীদের বিরুদ্ধে বিষেদাগার আরম্ভ করেন। আমার আব্বা মরহুম (জীবদ্দশায় ঐ মসজিদের স্থপতি ও খতীব থাকাকালীন) কে অপসারণ, সম্মানীত মুসল্লীদের (যারা তার মতের বিরোধী) কমিটি থেকে সরানোর ষড়যন্ত্রে নেতৃত্ব দান সহ নানা বিতর্কিত কাজে জড়িয়ে পড়লে আল্লাহর মহিমায় তিনি অপসারিত হতে হয়।

        প্রায় একযুগ ঢাকায় থাকাকালীন কয়েকটি মসজিদে কমিটির সদস্য থাকা ও সামাজিক কাজে জড়িয়ে থাকায় এলাকায় কোন মসজিদে ইমাম নেওয়া, মাহফিল সহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আলোচনা করার জন্য পরিচালকগণ আমার কাছে কোন আলেম চাইতে বলার সাথে আলাদা একটি শর্ত জুড়ে দিতেন আর তা হল- ওমুক পীর সাহেবের কোন মুরিদ যেন না হয় ! কোভিড-১৯ তথা প্যান্ডামিক সিচউশনে নিজ গ্রামে  আসার পরও দুঃখজনক ভাবে কোন মসজিদে ইমাম নেওয়া, মাহফিল সহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আলোচনা করার জন্য কোন আলেম চাইতে পরিচালকগণ এখানেও আমাকে একই শর্ত জুড়ে দেন !

 আল্লাহ ক্ষমা করুন। আর কোন ঘটনা বলে নিজের আমলনামা বাড়াতে চাইনা। এখনি সময় সংশোধনের। যে কোন বিবেচনায় আল্লামা ড. আবুল কালাম আযাদ বাশার সাহেবের সাথে ঘটে যাওয়া বিষয়টি খুবই অন্যায় অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত । এমন ঘটনা করা বা একে নূন্যতম সাপোর্ট করা সহ এমন সব কিছু বন্ধ করুন। প্রিয় ভাইয়েরা ! পীর সাহেবের মুরিদেরা, সেই দলের অনুসারী ভাইয়েরা- আপনাদেকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি (ততক্ষণ, যতক্ষণ আপনার হক্বের পথে থাকবেন। কিন্তু আপনাদের অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত সংশোধনের কোন সম্ভাবনা দেখিনা। যার ফলে আমার অনেক নিকট আত্নীয় আপনাদের দল থেকে বেরিয়ে এসেছেন।) এখনও সময় আছে নিজেদের সংযত করুন। আল্লাহ না করুন আপনাদের অতি বাড়াবাড়ি, অহমিকা, চর দখলের মতো মসজিদ দখলদারী সহ সকল হীন কর্ম বন্ধ করুন। অন্যথায় আল্লাহ না করুন আল্লাহর পাকড়াও থেকে কোন ভাবেই রেহাই পাবেন না। আল্লাহ আমাদের সকলকে সীরাতুল মুসতাক্বীমের পথে পরিচালিত করুন। আমীন ছুম্মা আমীন।

লেখক-
শিক্ষক ও সাংবাদিক
সাবেক নির্বাহী সম্পাদক
সাপ্তাহিক জাগ্রত জনতা।
ঢাকা।


WATCH POPULAR Telefilm : Coronar Azab -

WATCH POPULAR Telefilm : Oporadhi -

Share on Google Plus

About Iqra Graphics

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 facebook-blogger-disqus:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন